ব্রিগেডে গীতাপাঠের দিন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর: তিন অভিযুক্তকে জামিন, পালটা অভিযোগে নতুন বিতর্ক
উওর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানের দিন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে জামিন দিল কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত। এক হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন মেলে ধৃতদের।
এদিকে, আদালত থেকে বেরিয়েই প্যাটিস বিক্রেতার বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ আনেন ধৃতরা— আমিষ প্যাটিসকে নিরামিষ বলে বিক্রি করছিলেন বিক্রেতা। সেই অভিযোগে ময়দান থানায় অভিযোগও দায়ের করেন তাঁরা।
অভিযুক্তদের আইনজীবীর দাবি, “ঘটনাটি ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্যাটিস বিক্রি নিয়ে কোনও বিরোধ হয়নি। নিরামিষ বলে আমিষ প্যাটিস বিক্রি করায় ক্রেতারা মেজাজ হারান। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত পেয়েই হাতাহাতির ঘটনা।”
যদিও সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টই বলেন— “এ সব ভিত্তিহীন। আমিষ প্যাটিস বিক্রির অভিযোগ তুলে বিক্রেতাকে হেনস্তা করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হলে তা জামিন অযোগ্য।” ধৃতদের জামিন না দেওয়ার আবেদন করেন তিনি, কিন্তু আদালত তিনজনকেই মুক্তি দেয়।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ব্রিগেডে ‘৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ’ আয়োজন করেছিল আরএসএস ঘনিষ্ঠ সনাতন সংস্কৃতি সংসদ। সেই অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করতে এসেছিলেন আরামবাগের শেখ রিয়াজুল এবং তপসিয়ার মহম্মদ সালাউদ্দিন। অভিযোগ, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কয়েকজন যুবক তাঁদের হেনস্তা করেন, প্যাটিস ফেলে দিয়ে মারধরও করা হয়। কান ধরে ওঠবোসও করানো হয় বলে অভিযোগ। রিয়াজুলের প্রায় ৩ হাজার টাকার খাবার নষ্ট হয়।
ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ময়দান থানায় দু’টি মামলা দায়ের হয়। তার ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার তিন অভিযুক্ত— সৌমিক ঘোষ (গোবরডাঙা), তরুণ ভট্টাচার্য (উত্তরপাড়া), স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী (অশোকনগর)। তিনজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।