ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সাক্ষী লিওনেল মেসি, জামনগরের ‘বনতারা’য় স্মরণীয় সফর
উত্তর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক :ভারত সফরে এসে এক বিশেষ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত ‘বনতারা’—বৃহত্তম বন্যপ্রাণী উদ্ধার, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রে এই বিশেষ সফরে অংশ নেন তিনি। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিরেক্টর অনন্ত আম্বানির স্বপ্নের প্রকল্প ‘বনতারা’ আজ ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে।
ভারতীয় সনাতন ধর্মের রীতি মেনে আশীর্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে বনতারা সফর শুরু করেন মেসি। ঐতিহ্যবাহী হিন্দু আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরিচর্যার সঙ্গে যুক্ত সংরক্ষণ দলগুলির সঙ্গে কথা বলেন। এই সফরজুড়ে তাঁর বিনয়, মানবিকতা ও সংবেদনশীল মানসিকতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে—যার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
মেসির সঙ্গে ছিলেন তাঁর ইন্টার মায়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দে পল। তাঁদের স্বাগত জানানো হয় রাজকীয় ও ঐতিহ্যবাহী কায়দায়—প্রাণবন্ত লোকসংগীত, পুষ্পবৃষ্টি ও আনুষ্ঠানিক আরতির মাধ্যমে। এরপর অম্বে মায়ের পূজা, গণেশ পূজা, হনুমান পূজা ও শিব অভিষেকে অংশ নেন ফুটবল কিংবদন্তি। ভারতের চিরায়ত ‘সকলের প্রতি শ্রদ্ধা’র নীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিশ্বশান্তি ও ঐক্যের জন্য প্রার্থনা করেন।
অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বনতারা-র বিস্তৃত সংরক্ষণ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন মেসি। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া সিংহ, বাঘ, চিতা, গণ্ডার, জিরাফ, হাতি, তৃণভোজী প্রাণী ও সরীসৃপদের জন্য গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক ও সমৃদ্ধ পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি নিজ হাতে গণ্ডার, জিরাফ ও হাতিদের খাবার খাওয়ান এবং বন্যপ্রাণী কল্যাণে বনতারা-র ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এছাড়াও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগার কমপ্লেক্স ঘুরে দেখেন মেসি। বিশেষ করে সিংহ, বাঘ ও চিতাবাঘ পরিচর্যা কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তিনি দেখেন কীভাবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রাণীদের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সফরের এক আবেগঘন মুহূর্তে অনাথ ও দুর্বল বন্যপ্রাণীদের প্রতি বিশেষ যত্নের উদ্যোগে অংশ নেন মেসি। তাঁর সম্মানে অনন্ত আম্বানি ও রাধিকা আম্বানি যৌথভাবে একটি সিংহশাবকের নামকরণ করেন—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এক অনন্য প্রতীক হয়ে থাকবে।