বন্ধু নাকি যন্ত্র? সম্পর্কের প্রশ্নে এআই কতটা বিশ্বাসযোগ্য
উওর বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: বন্ধু কি কেবল দ্রুত উত্তর দিলেই হওয়া যায়? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জনপ্রিয়তা দেখে সে প্রশ্ন নতুন করে উঠে আসছে। মুহূর্তে উত্তর, নির্ভুল তথ্য, নিরন্তর উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এআই যেন আধুনিক মানুষের সর্বক্ষণিক সঙ্গী। কিন্তু এই ‘বন্ধুত্ব’ কি সত্যিই বিশ্বাসযোগ্য?
এআই-এর সীমাবদ্ধতা ঠিক এখানেই। সে জানে, কিন্তু বোঝে না। কারণ তার মন নেই, স্মৃতি আছে—কিন্তু অনুভূতি নেই। প্রেম, সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত সংকটের মতো বিষয় কেবল তথ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। সেখানে প্রয়োজন আবেগের পাঠ, না-বলা কথার ইঙ্গিত, কণ্ঠস্বরের ভাঙন—যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাগালের বাইরে।
এআই মূলত ব্যবহারকারীর দেওয়া বিবরণেই আটকে থাকে। অথচ সম্পর্ক মানেই দুই বা ততোধিক বাস্তবতার সংঘর্ষ। একজনের অভিযোগের আড়ালে অন্যজনের অসহায়তা, ক্লান্তি বা চাপ লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই অনুপস্থিত দিকটি না জেনেই এআই যে পরামর্শ দেয়, তা অনেক সময় একতরফা ও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
আরও একটি প্রশ্ন এখানে গুরুত্বপূর্ণ—আমরা কি আদৌ সমাধান চাই, না কি নিজের সিদ্ধান্তের সমর্থন? আজকের দ্রুত-বিচ্ছেদের যুগে অনেকেই নিজের রাগ বা হতাশাকে বৈধতা দিতে চায়। এআই সেখানে নিরপেক্ষ যুক্তির মোড়কে সহজ সমর্থন জোগায়। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙার পরে কী ঘটে, তার দায় সে নেয় না।
মন ও মাথার দ্বন্দ্ব মানবজীবনের চিরন্তন বাস্তবতা। যুক্তি যেখানে থেমে যায়, অনুভূতি সেখানেই কথা বলে। এআই যুক্তির পথে হাঁটে, অনুভূতির পথে নয়। তাই কারও জন্য ব্যাকুলতা, অপরাধবোধ, কিংবা একাকিত্বের অন্ধকার রাত—এসব তার কাছে কেবল শব্দমাত্র।
সবচেয়ে বড় বিপদ, এআই ভবিষ্যৎ দেখে না। সামাজিক প্রতিক্রিয়া, পারিবারিক অভিঘাত বা মানসিক ক্ষতির হিসেব সে কষে না। মানব বন্ধু যেখানে সম্ভাব্য পরিণতি ভেবে সতর্ক করে, এআই সেখানে কেবল ‘সম্ভাব্য সমাধান’ দেয়—পরবর্তী ধাপের দায়হীনতায়।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এআই কি বন্ধু, না কি কেবল একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র? উত্তর স্পষ্ট। তথ্যের জগতে সে দক্ষ, কিন্তু মানুষের জীবনের জটিল আবেগে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ। সম্পর্কের সংকটে এখনও মানুষের কথাই শেষ কথা।