নিপা ভাইরাসের হানা? উপসর্গ ও সতর্কতা নিয়ে সতর্কবার্তা


নিপা ভাইরাস রোগ: উপসর্গ কী, কীভাবে বাঁচবেন—উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বারাসাতের খবর
বারাসাতে দু’জন নার্স সম্ভবত নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত—এই খবরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়াল রাজ্যজুড়ে। অত্যন্ত মারাত্মক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই, নেই কার্যকর ভ্যাকসিনও। চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণের সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী কোমায় চলে যান, ধীরে ধীরে বিকল হতে থাকে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা। শেষ পর্যন্ত শ্বাসযন্ত্রও প্রায় কাজ বন্ধ করে দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।



সংগৃহিত ABP 







এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—কী কী উপসর্গ দেখলে নিপা সংক্রমণের আশঙ্কা করবেন? আর কীভাবে এই ভাইরাসের হানা থেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকা সম্ভব?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি ভাব ও গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরে মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঝিমুনি, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হয়ে ওঠে। তাই সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিপা ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়, তা নিয়েও নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। চিকিৎসকদের স্পষ্ট বক্তব্য—এই ভাইরাস সাধারণত মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায় না। বরং সংক্রামিত প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ থেকেই মূলত সংক্রমণ ঘটে। বাদুড় হল নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। বাদুড়ের লালা, প্রস্রাব বা মলের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশে। সেই দূষিত ফল, ফলের রস বা খাবারের মাধ্যমেই মানুষের শরীরে ভাইরাস ঢুকে পড়তে পারে। কাঁচা তালের রস কিংবা বাদুড় কামড়েছে এমন ফল নিপা সংক্রমণের বড় উৎস বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শুয়োর, ঘোড়া, ছাগল, কুকুর ও বিড়াল-সহ একাধিক প্রাণী নিপা ভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত শুয়োররা বাদুড়ের দ্বারা দূষিত ফল বা ফলের রস খেয়ে সংক্রমিত হয়। পরে সংক্রামিত শুয়োরের রক্ত, লালা বা প্রস্রাবের সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে ভাইরাস ঢুকতে পারে। যদিও শুয়োর সরাসরি নিপা ভাইরাসের বাহক নয়, তবে সংক্রামিত খামার থেকে পাওয়া শুয়োরের মাংস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—বিশেষত যদি তা বাদুড়ের মলমূত্রে দূষিত হয়।

নিপা থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা একাধিক সতর্কতার কথা বলছেন। শুয়োর পালন ও শুয়োরের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে কোনও ফল ভাল করে ধুয়ে খেতে হবে। কাঁচা তালের রস ও খোলা জায়গায় রাখা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভাল। সংক্রমণের আশঙ্কা থাকলে বা ভিড়যুক্ত এলাকায় গেলে N-95 মাস্ক ব্যবহারের কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায় সচেতনতাই নিপা মোকাবিলার একমাত্র পথ। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন