সর্ষের মধ্যেই ভূত! বাজেয়াপ্ত সোনা চুরির দায়ে কাস্টমস অফিসারের যাবজ্জীবন
হিলি: সর্ষের মধ্যেই ভূত—এই প্রবাদই যেন সত্যি প্রমাণিত হল। বাজেয়াপ্ত করা সোনা চুরির ঘটনায় প্রাক্তন কাস্টমস অফিসারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করল আদালত।
ঘটনাটি ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের। বিএসএফ জওয়ানরা সাতটি সোনার বার উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে হিলি কাস্টমস অ্যান্টি-প্রিভেন্টিভ ইউনিটের তৎকালীন ইন্সপেক্টর বলাদিত্য বারিকের হেফাজতে জমা দেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর, ২০২২ আদালতে হাজিরা দিয়ে ইন্সপেক্টর বারিক জানান, তাঁর অফিসের লকার থেকে ওই সোনার বারগুলি চুরি হয়ে গিয়েছে।
এরপরই হিলি থানায় মামলা রুজু হয়। তবে তদন্তে নেমে বিষয়টিকে সহজভাবে মেনে নেননি তদন্তকারী অফিসার গৌতম মণ্ডল। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও একাধিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। তদন্তে স্পষ্ট হয়, লকার থেকে চুরির দাবি ভুয়ো। বাজেয়াপ্ত সোনা আত্মসাতের পিছনে স্বয়ং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই জড়িত।
বিচার শেষে মহামান্য আদালত প্রাক্তন কাস্টমস অফিসার বলাদিত্য বারিককে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। সরকারি কর্মী হিসেবে পদমর্যাদার অপব্যবহার করে জনগণের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে।
এই রায়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসনিক মহল। একই সঙ্গে বার্তা স্পষ্ট—আইনের ঊর্ধ্বে কেউই নন।