আবাস যোজনার ঘর মেলেনি দৃষ্টিহীন স্ত্রী-মেয়ের পরিবারে, প্রশাসনের দ্বারস্থ অসহায় আইসক্রিম বিক্রেতা
রাজগঞ্জ: সরকারি আবাস যোজনার ঘরের আশায় দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত থেকে বিডিও অফিসে ঘুরেও মিলছে না সহায়তা এমনই অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভার বেলাকোবা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক দৃষ্টিহীন পরিবারকে ঘিরে।
পরিবারে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের ২৪ বছরের কন্যা। স্ত্রী নুর বানু জন্ম কিছুদিন চোখে দেখতে পেয়েছিলেন পরবর্তীতে দৃষ্টিহীন হয়ে যান । মেয়ে আম্বিয়া খাতুনও জন্মের কিছুদিন পর দৃষ্টিশক্তি হারায়। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মা ও মেয়ের দৃষ্টি ফেরানো সম্ভব নয়। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ফজলু মোহাম্মদ আইসক্রিম বিক্রি করে কোনওমতে তিনজনের সংসার চালান। প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে মাসে এক হাজার টাকা পান নুর বানু, যা দিয়ে সংসার চালানো কার্যত অসম্ভব বলেই দাবি পরিবারের।
ফজলু মোহাম্মদের অভিযোগ, তাঁর শ্বশুরও দৃষ্টিহীন ছিলেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে সামান্য টাকায় একটি টিনের ঘর তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সেই ঘরের টিনের চাল দিয়ে বর্ষাকালে জল পড়ে। বারবার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ। এমনকি জলপাইগুড়ি সদর বিডিও অফিসে লিখিত আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি বলে দাবি তাঁদের।
নুর বানুর কথায়, ভোটের সময় আমার হাত ধরে ভোট দেওয়ানো হয়। কিন্তু ভোটের পর ঘরের কথা বলতে গেলে আর গুরুত্ব দেওয়া হয় না। উল্টে বলা হয়, আমি নাকি ঘর পাওয়ার যোগ্য নই। তাঁর প্রশ্ন, প্রকৃত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কেন সরকারি আবাস মিলছে না।
পরিবারের দাবি, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন নেই, তাঁরাই আবাসের সুবিধা পাচ্ছেন অথচ প্রকৃত প্রাপকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুর রহমানের হয়ে আজাহার আলী জানান, পরিবারটি আবাসের যোগ্য। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এখনও ঘর মেলেনি, তা খতিয়ে দেখা হবে।
জলপাইগুড়ি সদর বিডিও মিহির কর্মকার জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।