রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ‘ভোরের আলো’ ইকো পার্ক বেহাল, গরুর খাটালে পরিণত—ক্ষোভ রাজগঞ্জে
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ‘ভোরের আলো’ প্রকল্পের ইকো পার্কে বেহাল দশা, গরুর খাটালে পরিণত—ক্ষোভ রাজগঞ্জে
রাজগঞ্জ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘ভোরের আলো’র আওতায় কোটি টাকা ব্যয়ে রাজগঞ্জে নির্মিত ইকো পার্ক বর্তমানে কার্যত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কটি এখন প্রায় গবাদি পশুর অবাধ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, এলাকার বহু সাধারণ মানুষই জানেন না যে ভোরের আলো প্রকল্পের অন্তর্গত একটি ইকো পার্ক এখানে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ হলে এলাকাবাসী এবং শিশুদের জন্য পার্কটি উপকারী হয়ে উঠতে পারত।
স্থানীয় বাসিন্দা সুদেব হালদার জানান, “আমরা এখানে কাজ করেছি ঠিকই, কিন্তু জানতামই না যে এখানে কোনও ইকো পার্ক রয়েছে।”
অন্য বাসিন্দা অরুণ বিশ্বাসের কথায়, “পার্ক আছে ঠিকই, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের ভীষণ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে বিজেপির জেলা সদস্য উত্তম রায় অভিযোগ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প হলেও বহুদিন আগে তৈরি এই ইকো পার্কে পর্যটকদের যাতায়াত নেই। অনেকেই জানেন না এখানে পার্ক রয়েছে। তাঁর দাবি, গজলডোবা সংলগ্ন সরস্বতীপুর এলাকাতেও একই অবস্থা—রাস্তা জঙ্গলে ভরা, জীবজন্তু ও গবাদি পশুর অবাধ যাতায়াত, অথচ প্রশাসনের কোনও নজর নেই।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় বহু শিশু রয়েছে। পার্কটি ঠিকঠাক থাকলে তারা খেলাধুলার সুযোগ পেত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে গবাদি পশুই ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এভাবেই অপচয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা ‘ভোরের আলো’ প্রকল্পের ভাইস-চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায় জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে যাতে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ সঠিকভাবে করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রাজগঞ্জের বিডিও সৌরভ কান্তি মণ্ডল জানান, ভোরের আলো প্রকল্পে ইকো পার্ক রয়েছে—এই তথ্য তাঁর জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে খবরটি নজরে আনার জন্য সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।