রাজগঞ্জের শিকারপুর চা বাগানে চিতাবাঘের আতঙ্ক, বনদপ্তরের খাঁচা—তবু কাটেনি ভয়


রাজগঞ্জ:জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগান এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চিতাবাঘ ধরার জন্য বৈকুণ্ঠপুর বন বিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের পক্ষ থেকে খাঁচা পাতা হয়েছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে শিকারপুর চা বাগানের চার নম্বর লাইনে কাজে যাওয়ার সময় শ্রমিকরা বাগানের ড্রেনে একটি গরুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সময় বাগানের দিক থেকে একটি চিতাবাঘ দৌড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বেলাকোবা আউটপোস্টের পুলিশ ও বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
এরপর একের পর এক গবাদি পশু টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে চিতাবাঘের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার পাল বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিকারপুর চা বাগানের নাগপুর এলাকায় একটি খাঁচা পাতেন। তবে এখনও পর্যন্ত চিতাবাঘ খাঁচায় ধরা পড়েনি, ফলে আতঙ্ক কাটেনি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন গত শুক্রবারের পর থেকে একের পর এক গরু, ছাগল এমনকি শুয়োরও চিতাবাঘ মেরে খেয়ে ফেলেছে। বাগান এলাকায় অনেক ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই ভয়ে আছি। বনদপ্তর খাঁচা পেতেছে এবং টহল দিচ্ছে, তবে রাতে টহল আরও বাড়ানো দরকার।
বাগানের শ্রমিকরা জানান,গত দু’সপ্তাহ ধরে বাগানের ভেতর চিতাবাঘের ঘোরাফেরা দেখা যাচ্ছে। আমাদের বাড়িঘর বাগানের মধ্যেই। ছোট বাচ্চারা রয়েছে। এই অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজে নামতে হচ্ছে। দ্রুত বাঘটিকে ধরার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার পাল জানান, সনাক্তকরণে নিশ্চিত হওয়া গেছে ওই এলাকায় চিতাবাঘ রয়েছে। সেই কারণেই শুক্রবার নাগপুর এলাকায় খাঁচা পাতা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাঘটি খাঁচায় পড়েনি। শিকারপুর চা বাগান এলাকায় প্রতিদিন সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় বনকর্মীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।
অন্যদিকে শিকারপুর চা বাগানের ম্যানেজার প্রসূন চক্রবর্তী বলেন, চিতাবাঘের আতঙ্ক থাকলেও বাগানে কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। বনদপ্তর খাঁচা পেতেছে এবং শ্রমিকদের সচেতন করার জন্য আগেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন