ডেপুটেশন সিডিপিওকে ,রান্না বন্ধেরও চরম হুঁশিয়ারি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের
নুর আইন,মালদা;৩০জুন: দেশ-জুড়ে চরম মূল্যবৃদ্ধি। নাজেহাল সাধারণ মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এবার এই মূল্যবৃদ্ধির দাপটে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার চালাতে পারছেন না। তাই অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারের শিশুদের মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে এদিন মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর সিডিপিওর দপ্তরে ডেপুটেশন জমা দিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বরের অঙ্গনওয়াড়িকর্মীরা। তারা জানালেন সরকার অঙ্গনওয়ারীতে শিশুদের মাথা প্রতিতে ডিমের জন্য ৫ টাকা করে বরাদ্দ করে। কিন্তু শিশুদের জন্য ডিম কিনতেই প্রতি ডিমে সাত টাকা বেরিয়ে যায়। এরপরে আলু সহ মশলাপাতি তে আরো খরচ রয়েছে। ২৮ পয়সা করে শিশুর প্রতি আলুর জন্য পাওয়া যায়। তারপর জ্বালানি খরচ সহ আরো অন্যান্য খরচ আছে। যেগুলি কোন মতেই বাকি পয়সায় করা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি সঠিক সময় বিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই জন্য অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অবিলম্বে যাতে অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে শিশুদের মাথাপিছু বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয় পাশাপাশি সঠিক সময়ে বিল যেন পাওয়া যায় সেই বিষয়ে আজ তারা চাইল্ড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার অনুপ সরকারকে ডেপুটেশন প্রদান করলেন বলে জানালেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। তাদের দাবি অবিলম্বে মাথাপিছু বরাদ্দ না বৃদ্ধি পেলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি তাদের দাবি না মানা হলে তারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্না বন্ধেরও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আইসিডিএস কর্মী সুজাতা সাহা বলেন,ডিমের দাম আকাঁশছোয়া।বর্তমান বাজারে প্রতি পিস ডিমের মূল্য ৭ টাকা।কিন্তু সরকারি অর্থে বরাদ্দ রয়েছে ৫ টাকা।যার কারনে আমরা ঘর থেকে টাকা লাগিয়ে সেন্টারে শিশুদের ডিম দিচ্ছি।শুধু ডিম নয়। আলুর দামও চড়া।বাজারে কেজি দরে মিলছে ৩০ টাকা।কিন্তু সরকারি বরাদ্দে সঠিক বিল পাওয়া যাচ্ছে না।যার কারনে অধিকাংশ দিনই ঘর থেকে টাকা লাগিয়ে সেন্টার চালতে হচ্ছে।আমরা সেন্টার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি।রেহাই পেতে সিডিপিওর দারস্থ হয়েছি।
আরেক আইসিডিএস কর্মী পপী চক্রবর্তী বলেন,আমাদের দাবী বাজার দর অনুযায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পুষ্টিকর খাদ্যের অর্থ বরাদ্দ করুক।সেই ভাবে করলে সপ্তাহের ছয়দিনই শিশুদের ডিম দিতে পারব।
এদিকে এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুরের সিডিপিও অনুপ সরকার জানান এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা আজ তাদের দাবি নিয়ে ডেপুটেশন জমা করলেন। তাদের সমস্ত দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।