কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও খুনের মামলায় অভিযুক্ত সাসপেন্ডেড বিডিও প্রশান্ত বর্মন অধরা। গত ১৩ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে তাঁর গ্রেপ্তারি এড়ানোর আবেদন খারিজ হওয়ার পরেও কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা গেল না, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। কিন্তু শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করার কথা জানায়। আত্মসমর্পণ না করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও রয়েছে হাইকোর্টের।
অভিযোগ, এত কিছুর পরেও প্রশান্তের নাগাল পায়নি বিধাননগর পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অভিযুক্ত নেপালে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে সেই দাবির সপক্ষে কী তথ্য রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এর আগেও প্রশান্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। অন্য এক অভিযুক্তের জামিনের শুনানিতে প্রশান্তকে ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারও আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব পুলিশেরও রয়েছে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ। আইনজীবী শামিম আহমেদের বক্তব্য, খুনের মামলায় অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলে তা কার্যকর করতে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের অধরা থাকা বিচারব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।