তিন বছরেও শেষ হয়নি সাহুডাঙ্গির ব্রিজের কাজ, পুজোর আগে খুলবে তো?
ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ, বাড়ছে ক্ষোভ
সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দেখতে দেখতে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি সাহুডাঙ্গির ক্যানাল মোড়ে তিস্তা-মহানন্দা ক্যানেলের উপর নির্মীয়মাণ ব্রিজের কাজ। ফলে আমবাড়ি, বেলাকোবা, রাজগঞ্জ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সামনেই দুর্গাপুজো। তার আগে ব্রিজটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শিলিগুড়িতে যাতায়াত করেন বহু মানুষ। ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী—সকলের কাছেই রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রিজের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে যাতায়াতের দুর্ভোগও।
পুজোর মুখে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাই পুজোর আগেই ব্রিজটি খুলে দেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
নিত্যযাত্রী সুবোত রায় ও কালিচরণ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রায় তিন বছর ধরে আমরা এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করছি। কবে কাজ শেষ হবে, তা ঠিক করে জানা নেই। পুজোর আগে যদি ব্রিজটি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের মতো হাজার হাজার মানুষের অনেক সুবিধা হবে।”
সুবোত রায় আরও বলেন, “ক্যানেলের এপারে আমাদের দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল, আর ওপারে আমার বাড়ি। ব্রিজ বন্ধ থাকায় দুই থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। কাজের এই দীর্ঘসূত্রিতায় আমরা খুবই অসুবিধায় পড়েছি। পুজোর আগে ব্রিজটি খুলে দিলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।”
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার বলেন, “ব্রিজের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। পুজোর আগেই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পুজোর আগেই ব্রিজটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।”
বিধায়কের আশ্বাসে কিছুটা আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী। তবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে দুর্গাপুজোর আগে সত্যিই ব্রিজটি চালু হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।