বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বালিবোঝাই ডাম্পার আটকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ, রাজগঞ্জে চার যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
রাজগঞ্জ: বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বালিবোঝাই ডাম্পার আটকে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল চার যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেলাকোবার শিকারপুর হাট সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার পর রাজগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বালি ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম ও ডাম্পারচালক অজয় বিশ্বাস।
অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, রাত প্রায় ২টা নাগাদ শিকারপুর হাট এলাকায় বালিবোঝাই ডাম্পারটি আটক করেন কয়েকজন যুবক। ব্যবসায়ীর দাবি, বালি পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ডাম্পারটি আটকে দেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই যুবকদের মধ্যে একজন নিজেকে নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর নাম পরিতোষ রায় ওরফে রাজু বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডাম্পারটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য ওই চার যুবক মিলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিতোষ রায় ওরফে রাজু। ফোনে তিনি বলেন, ‘‘আমি খবর করতে গিয়েছিলাম। টাকা চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ তবে স্থানীয় সূত্রে দাবি, এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সেই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার জেরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বালি ব্যবসায়ী মহলে। বালি ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম বলেন, ‘‘বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ডাম্পার আটক করে টাকা চাওয়া অন্যায়। সব কাগজপত্র পরীক্ষা করার পরই বালি পরিবহণের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ধরনের ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’’
এ বিষয়ে রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা বিজেপি নেতা নিতাই মণ্ডল বলেন, ‘‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে, সেক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নেবে। আমাদের সরকার এ ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করে না।’’
অন্যদিকে, সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সম্পাদক গিরিশ মণ্ডল বলেন, ‘‘সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না।’’ বিষয়টি জানার পর পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।