কথাকলির আদলে মণ্ডপ, ৬২ বছরে বটতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো



সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ:
ঐতিহ্যের ৬২ বছরে পা দিতে চলেছে রাজগঞ্জ ব্লকের বটতলা নবজীবন ক্লাব অ্যান্ড লাইব্রেরির বটতলা সর্বজনীন দুর্গাপুজো। প্রতিবছরই নতুন থিম ও চমক দিয়ে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ বছর কেরলের ঐতিহ্যবাহী কথাকলি শিল্পরীতির আদলে তৈরি হচ্ছে পুজোর মণ্ডপ। রাজগঞ্জের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গড়ে উঠবে এই বিশেষ মণ্ডপ।

রবিবার রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকারের হাত দিয়ে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতির সূচনা হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, মণ্ডপ নির্মাণে পরিবেশবান্ধব উপকরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাঁশ, ফোম, প্লাইউড-সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপের নান্দনিক কারুকার্য। পাশাপাশি এলইডি আলোয় সাজিয়ে তোলা হবে গোটা পুজো প্রাঙ্গণ।
উদ্যোক্তারা জানান, ধূপগুড়ির একটি ডেকোরেটর সংস্থা মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। শিলিগুড়ির কুমারটুলি থেকে আনা হবে প্রতিমা। পুজোর দিনগুলিতে রাস্তা জুড়ে থাকবে চন্দননগরের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা।

পুজো কমিটির সভাপতি তপন রায় বলেন, “রবিবার বিধায়কের হাত দিয়ে খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শুরু হল। প্রতিবছরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

কমিটির সম্পাদক নকুল দাস ও বাপ্পা সরকার জানান, “এবারের মণ্ডপটি কাল্পনিক মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতের বেলায় থাকবে চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা। অষ্টমী ও নবমীতে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও থাকবে।”

দুর্গাপুজোর পাশাপাশি এবছর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে মিলনমেলা। সেখানে থাকবে হরেক রকমের স্টল। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রতিবছর শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন। পুজোর কয়েকটি দিন বয়সের ভেদাভেদ ভুলে এলাকার মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। তাঁদের মতে, মানুষের এই মিলনই পুজোর সবচেয়ে বড় সাফল্য।

খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার, পুজো কমিটির সভাপতি তপন রায়, গণেশচন্দ্র দাস, সম্পাদক নকুল দাস ও বাপ্পা সরকার, অরিজিৎ সেন মজুমদার, মনোজিৎ মোদক, স্নেহাংশু প্রসাদ লাহিড়ী, দীপেন্দর সাহা, লিটন নন্দী-সহ পুজো কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।