ছোটখাটো অসুস্থতা হলেই পাড়ার পরিচিত ফার্মেসিতে গিয়ে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ কেনার চল রয়েছে। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় লাগাম টানতে উদ্যোগী কেন্দ্র। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে নতুন কড়া নিয়ম আনার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক।
গত ৮ সেপ্টেম্বর মন্ত্রকের তরফে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, খুচরো ওষুধের দোকানে ওষুধ বিক্রির প্রক্রিয়া CCTV ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনতে হবে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রির সময়কার CCTV ফুটেজও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হবে।
খসড়া নিয়মে বলা হয়েছে, ওষুধের দোকানে বসানো CCTV-র ফুটেজ অন্তত ৯০ দিন সংরক্ষণ করতে হবে। কোনও বৈধ প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে ওষুধ বিক্রি হয়েছে কি না, প্রয়োজনে সেই ফুটেজের মাধ্যমে তা যাচাই করা যাবে।
নতুন প্রস্তাবটি মূলত প্রেসক্রিপশন মেডিসিনের খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পাইকারি ওষুধ বিক্রিকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধও যদি প্রেসক্রিপশন-নির্ভর শ্রেণিতে পড়ে, সেক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে এখনও এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। আপাতত এটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আগামী এক মাস সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করার প্রক্রিয়া এগোবে।
কেন্দ্রের লক্ষ্য, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বা ‘সেলফ-মেডিকেশন’ কমানো। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কড়া ওষুধ বা বড়দের জন্য নির্ধারিত কফ সিরাপ ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনা ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।