কোচবিহার: প্রথমে ৯৫৩। তার পরে ১২৩৬, ১২৩৭। শেষে ১৮৫১, ১৮৫২। এই সংখ্যাগুলি নবপ্রজন্মের কাছে নিছক সংখ্যা হলেও কোচবিহারের প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে এগুলি নস্ট্যালজিয়ার নাম। একসময় শহরের রাজপথে দাপিয়ে বেড়ানো দোতলা বাসগুলির নম্বর ছিল এগুলি। দীর্ঘদিন পর সেই দোতলা বাসই ফের ফিরতে চলেছে কোচবিহারের রাস্তায়। শুধু কোচবিহার নয়, নতুন রুটে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অংশকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)।
ইতিমধ্যেই নতুন রুটের সমীক্ষা শেষ করেছে নিগম। প্রায় পৌনে দু’কোটি টাকা খরচ করে ইলেকট্রিক অথবা সিএনজি চালিত দোতলা বাস কেনার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। নিগম সূত্রে খবর, কোচবিহার থেকে সোনাপুর হয়ে চিলাপাতা জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাসিমারা ও মাদারিহাট পর্যন্ত বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে রাজাভাতখাওয়া হয়ে জয়ন্তী রুটেও দোতলা বাস চালানোর কথা ভাবা হয়েছে।
আশির দশকের গোড়ার দিকে কোচবিহারে দোতলা বাস পরিষেবা শুরু হয়েছিল। কোচবিহার-পুণ্ডিবাড়ি-সোনাপুর এবং কোচবিহার-তুফানগঞ্জ-বক্সিরহাট রুটে মূলত চলত এই বাস। একুশ শতকের গোড়ায় বাসগুলি ধীরে ধীরে অকেজো হতে শুরু করে। পরে জয়ন্তী, রসিকবিলের মতো পর্যটন রুটে দোতলা বাস চালানো হয়েছিল। ‘সবুজের পথে হাতছানি’ প্রকল্পেও ব্যবহার করা হয়েছিল এই বাস। কিন্তু সেই পরিষেবাও পরে বন্ধ হয়ে যায়।
২০২১ সালে একটি দোতলা বাস বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাড়ায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটিও সফল হয়নি। বর্তমানে একটি পুরনো দোতলা বাস কোচবিহার সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাসে পড়ে রয়েছে। সেটি আর চালানোর অবস্থায় নেই। পর্যটকদের দেখার জন্যই রাখা হয়েছে।
নতুন বাস চালানোর ক্ষেত্রে অবশ্য কয়েকটি পরিকাঠামোগত সমস্যাও রয়েছে। সোনাপুর ও রাজাভাতখাওয়ায় দু’টি আন্ডারপাস রয়েছে। ফলে ওই পথে দোতলা বাস চলাচল সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে নিগম।
এনবিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অশ্বিনীকুমার রায় জানিয়েছেন, বাস কেনার জন্য আর্থিক জোগান নিয়ে সমস্যা নেই। রুট ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলতি বছর অথবা নতুন বছরের গোড়ায় শীতের পর্যটন মরশুমে ফের দোতলা বাস পরিষেবা চালুর লক্ষ্যে এগোচ্ছে নিগম।