চ্যাংরাবান্ধা: দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভারতে বসবাসের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মঙ্গলবার চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে নথিপত্র যাচাইয়ের সময় ধরা পড়েন মহঃ ইসমাইল নামে ওই ব্যক্তি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ইমিগ্রেশন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন ইসমাইল। মঙ্গলবার ভারতে ফেরার সময় তাঁর নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি নজরে আসে আধিকারিকদের। অনলাইন তথ্য যাচাই ও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ভারত সরকার তাঁর পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের বাসিন্দা ইসমাইল ও তাঁর পরিবার অতীতে বৈধ নথিপত্র নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করতেন। অভিযোগ, ২০১৮ সালে তাঁরা হলদিবাড়ির মানিকগঞ্জ সংলগ্ন কাঁটাতারবিহীন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে জলপাইগুড়িতে আশ্রয় নিয়ে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সেনপাড়ায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ, ২০২১ সালে ইসমাইল অবৈধভাবে ভারতীয় পাসপোর্টও তৈরি করেন। এরপর একাধিকবার চ্যাংরাবান্ধা ও ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করলেও স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাননি। সম্প্রতি অসুস্থ বাবাকে দেখতে একাই বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার সময়ই চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ধরা পড়েন।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি কলকাতার এফআরআরও দপ্তরকেও জানানো হয়েছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি সামনে এসেছে। ভারতীয় পাসপোর্ট অনুযায়ী ইসমাইলের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম ঢাকায়, ১৯৮১ সালের অক্টোবর মাসে।
বুধবার তাঁকে কোচবিহারে পাঠিয়ে ফরেনারস আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে বায়োমেট্রিক-সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হবে। এরপর কলকাতার এফআরআরও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনয় সাহার অভিযোগ, অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিকদের ভারতে বসবাসের ক্ষেত্রে কোনও চক্র জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।