বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক! কৃষক খুনের চেষ্টার মামলায় গ্রেফতার ভাই, সামনে এল পরিবারের একাধিক অভিযোগ

বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক, সামনে এল ভাইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
উত্তর বাংলা ডিজিটাল : বাংলায় ‘বাগেশ্বর ধাম’ হবে—এমন প্রতিশ্রুতি নাকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এরই মধ্যে ধর্মীয় বক্তা পণ্ডিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’কে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। বাংলায় তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর সম্পত্তি, আয় এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের প্রসঙ্গ।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মোট সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৯.৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে। তবে এই সম্পত্তির কোনও সরকারি হিসাব প্রকাশ্যে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ‘কথা’ আয়োজন তাঁর আয়ের অন্যতম উৎস। একটি অনুষ্ঠানের জন্য আনুমানিক ১ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া হয় বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের অনুষ্ঠান কয়েক দিন থেকে ১০-১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে।

তবে সম্পত্তি ও আয় নিয়ে চর্চার পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে বাগেশ্বর বাবার ছোট ভাই শালিগ্রাম গর্গকে ঘিরে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগের ইতিহাস।

মধ্যপ্রদেশের ছত্তরপুরের কোদা গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা এবং গুলি চালানোর অভিযোগে শালিগ্রাম গর্গকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযোগ ছিল, কৃষক মোতিলাল কুশওয়াহার বাড়িতে শালিগ্রাম ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী হামলা চালান। প্রথমে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় কৃষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

আহত কৃষকের অভিযোগ ছিল, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তাঁর উপর হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার একটি ভিডিয়োও পুলিশের হাতে আসে বলে জানা যায়। সেখানে কয়েকজনকে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছিল। আহতের বয়ান, ভিডিয়ো ফুটেজ এবং চিকিৎসকদের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

শালিগ্রাম গর্গের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ ওঠার কথা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালে সাগর জেলার একটি টোল প্লাজার কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভাইয়ের গ্রেফতারির পর অবশ্য ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী দাবি করেছিলেন, কয়েক বছর আগেই তিনি শালিগ্রামের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, গোটা বিশ্বই তাঁর পরিবার এবং তিনি দেশ ও ধর্মের সেবায় নিয়োজিত।

এদিকে বাংলায় বাগেশ্বর বাবার সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ধর্মীয় উৎসবে আমিষ খাবার গ্রহণকারীদের ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্যে বাঙালির আবেগ, খাদ্যাভ্যাস এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অপমান করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। একাংশের নেটিজেনের অভিযোগ, বাঙালির দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতিকে ধর্মীয় মানদণ্ডে বিচার করে সামাজিক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে একদিকে বাগেশ্বর বাবার সম্পত্তি ও আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে তাঁর পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং বাংলায় তাঁর বক্তব্য—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক।


সংগৃহীত