ডিজিটাল ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার মাত্র চার মাসের মধ্যেই সংখ্যালঘু উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘিরে বিতর্কে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থলপতি বিজয়ের সরকার। দিন দু’য়েক আগে রাজ্য সরকারের ঘোষিত একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর মুসলিম ছাত্রীরা স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
তামিলনাড়ু সরকারের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী এ এম শাহজাহান বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন, রাজ্যের সমস্ত সরকারি, আধা-সরকারি এবং সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া বেসরকারি কলেজে মুসলিম ছাত্রীরা এই সুবিধা পাবেন। আর্টস, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, কৃষি এবং আইন—স্নাতক স্তর পর্যন্ত এই সমস্ত বিষয়ে পড়াশোনার জন্য তাঁদের কোনও ফি দিতে হবে না। এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।
শুধু উচ্চশিক্ষাই নয়, ওয়াকফ স্কলারশিপের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে রাজ্যের প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা এই স্কলারশিপের সুবিধা পেতেন। এবার সেই সুবিধা দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্যও একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। সংখ্যালঘু মহিলাদের শিক্ষার হার বাড়ানোর লক্ষ্যে চেন্নাইয়ে একটি পৃথক কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড। এছাড়াও মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াকফ এবং চার্চের সম্পত্তিতে কমিউনিটি হল ও বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সময়ের উপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১০ হাজার সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী।
সরকারের দাবি, সমাজের পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু মহিলাদের শিক্ষার সুযোগ বাড়িয়ে তাঁদের মূলস্রোতে নিয়ে আসাই এই প্রকল্পগুলির উদ্দেশ্য। তবে মুসলিম ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্টভাবে বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী মহল ও বিভিন্ন সংগঠন।
প্রশ্ন উঠছে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের সহায়তার ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা প্রকল্প কতটা যুক্তিসঙ্গত? হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও বহু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও প্রান্তিক পরিবারের ছাত্রী রয়েছেন। তাঁদের জন্য একই ধরনের সুবিধা থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বিজয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ইতিমধ্যেই একাধিক হিন্দু সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে। ফলে সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে ঘোষিত এই প্রকল্প আগামী দিনে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার।