প্রিস্টিনা: সংসদে তখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছিল। সামনের সারিতে বসেছিলেন কসোভোর ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। আচমকাই তাঁর দিকে এগিয়ে এসে একের পর এক ডিম ছুড়তে শুরু করলেন বিরোধী দলের এক সাংসদ। মুহূর্তের মধ্যেই ডিমের কুসুমে হলুদ হয়ে যায় প্রধানমন্ত্রীর পোশাক। সংসদের অন্দরে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
রাজনীতিতে ‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা ঘটনা সামনে আসে। পশ্চিমবঙ্গেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা দেখা গিয়েছে। এবার সেই ‘এগ থেরাপি’-র ঘটনা ঘটল সুদূর কসোভোর সংসদে।
শনিবার কসোভোর পার্লামেন্টে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। অভিযোগ, এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ঘটনার সময় সংসদের সামনের সারিতে বসেছিলেন কুর্তি। আচমকাই তাঁর দিকে এগিয়ে যান বিরোধী দল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কোসোভো (AAK)-র সাংসদ টাইম কাদ্রিজাজ। এরপর তিনি কুর্তির দিকে পরপর একাধিক ডিম ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত এগিয়ে আসেন নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য সাংসদরা। সেই সময় কাদ্রিজাজকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “লজ্জা হওয়া উচিত।”
ঘটনার পর সংসদের অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় লাইভ সম্প্রচারও। নিরাপত্তারক্ষীরা কুর্তিকে ঘিরে ফেলেন। পরে ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন কাদ্রিজাজ।
তবে গোটা ঘটনায় কুর্তিকে বিশেষ বিচলিত হতে দেখা যায়নি। তিনি জানান, রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যদি ডিমের আঘাতও সহ্য করতে হয়, তাহলে সেই মূল্য দিতে তিনি প্রস্তুত।
সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কট
কসোভোতে সাম্প্রতিক নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। ৭ জুনের নির্বাচনে কুর্তির নেতৃত্বাধীন ভেটেভেনদোসিয়ে পার্টি সর্বাধিক আসন পেলেও সরকার গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য বিরোধীদের সমর্থন প্রয়োজন।
১৮টি আসন পাওয়া ডেমোক্রেটিক লিগ অব কসোভো (LDK) সম্ভাব্য জোটসঙ্গী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কুর্তি এবং ওই দলের নেতা লুমিরের মধ্যে আলোচনায় এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। অন্যদিকে, বিরোধী কসোভো ডেমোক্রেটিক পার্টি (PDK) পেয়েছে ২২টি আসন।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও রয়েছে। সেই সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংসদীয় নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ফের নির্বাচনের পথে যেতে পারে কসোভো।
বিরোধীদের দাবি, আরও একটি নির্বাচন এড়াতেই কুর্তি আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় চাইছেন। যদিও তাঁর এই আবেদনের বিরোধিতা করে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিরোধী সাংসদরা।
এদিকে, কসোভোর সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।