অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের পানীয় জলের ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দপ্তর, রাজগঞ্জ বিডিও অফিস এবং জেলা পরিষদে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
জল না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের বাধ্য হয়ে স্কুল সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কিংবা ব্যস্ত রাস্তা পার হয়ে আশপাশের দোকান থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে যেমন পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে, তেমনই প্রতিদিন বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ গুহ বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, "প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।"
শুধু পানীয় জল নয়, এর প্রভাব পড়েছে মিড-ডে মিল পরিষেবাতেও। জল সংকটের কারণে অনেক পড়ুয়া ঠিকমতো খাবার খেতে পারছে না। রান্না করা খাবারও অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন খাদ্যের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক পড়ুয়াকে বাড়ি থেকে জল নিয়ে আসতে বলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। প্রয়োজনে পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও জল আনতে হচ্ছে।
এত বড় একটি বিদ্যালয়ে টানা তিন মাস ধরে পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা অচল থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কবে এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।