বেলাকোবার ‘পণ্ডিতের বাড়ি’: নামের আড়ালে লুকিয়ে ইতিহাস


সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: বেলাকোবার বাবুপাড়া, স্টেশন কলোনি, বিবেকানন্দ কলোনি কিংবা বটতলার নাম অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু ‘পণ্ডিতের বাড়ি’ নামটি শুনেছেন কি? কারও কাছে পরিচিত, আবার অনেকের কাছেই হয়তো এই নামটি একেবারেই অপরিচিত। অথচ বেলাকোবা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ঠিক বিপরীতে থাকা এই পাড়াটির পরিচিত নামই ‘পণ্ডিতের বাড়ি’। স্থানীয়দের অনেকেই আবার জায়গাটিকে ‘কলেজপাড়া’ নামেও চেনেন।

তবে ‘পণ্ডিতের বাড়ি’ নামটির পিছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বেলাকোবা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের বিপরীতে, কবরস্থানের পাশে মৌলম সমের আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ছিল। সেখানে একসময় একটি পাঠশালাও চালু ছিল বলে জানা যায়। সমের আলী ও সাফায়েদ ছিলেন দুই ভাই। তাঁদের পরিবারের সন্তানদের মধ্যে অনেকেই পড়াশোনায় কৃতিত্ব অর্জন করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ওমর আলী ও নাজের আলী।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের কৃতিত্বের কারণে তাঁদের বাড়ি ধীরে ধীরে ‘পণ্ডিতের বাড়ি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীকালে সেই নামেই গোটা পাড়াটি পরিচিত হয়ে ওঠে।

এই পরিবারেরই অন্যতম কৃতী ব্যক্তি ছিলেন ওমর আলী। জানা যায়, তাঁর জন্ম ২ জানুয়ারি ১৮৯৫ সালে। তিনি জলপাইগুড়ি সদরের সাব-ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস পদে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি শিকারপুর এম.ই. স্কুল—যা বর্তমানে বেলাকোবা হাইস্কুল নামে পরিচিত—প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়।

আজ বেলাকোবার ব্যস্ত জনজীবনের মাঝে ‘পণ্ডিতের বাড়ি’ হয়তো নিছক একটি পাড়ার নাম। কিন্তু সেই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শিক্ষা, কৃতিত্ব এবং স্থানীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।