নিজস্ব সংবাদদাতা: বারুইপুর এনকাউন্টারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক অব্যাহত। এই ঘটনায় একদিকে যেমন পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠেছে। এরই মধ্যে এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তোলা বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও একাংশের বুদ্ধিজীবীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বৃহস্পতিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ ঘোষ বলেন, অপরাধ বৃদ্ধির জন্য কমিউনিস্ট ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরাই দায়ী। তাঁর অভিযোগ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একাংশের বুদ্ধিজীবী তাঁদের পক্ষ নিয়ে আন্দোলনে নামেন। সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, এঁরা বুদ্ধিজীবী নন, সমাজবিরোধীদের সমর্থক।
বারুইপুরের মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।
দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যে ওই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত নন বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশের এনকাউন্টারে প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের একাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে বিচারপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বুদ্ধিজীবী মহলের একাংশ। ফলে এনকাউন্টার বিতর্ক আপাতত থামার লক্ষণ নেই।