রাজগঞ্জ: রাজগঞ্জ ব্লকের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের আমলে হওয়া সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়ে এবার তদন্তের দাবি তুলল বিজেপি। শনিবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের কার্যালয়ে এসে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক Shikha Chatterjee বলেন, “রাজগঞ্জের ফাইল এবার খুলবে। প্রশান্ত বর্মনের সময়কালে ব্লকে একাধিক অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।”
স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের ঘটনায় প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই রাজগঞ্জ বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শিখা চ্যাটার্জি।
বিজেপির অভিযোগ, বিডিও পদে থাকার সময় প্রশান্ত বর্মনের সম্পত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। কালচিনি, শিলিগুড়ি ও কলকাতার নিউ টাউনে তাঁর একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বাইরে থেকে আনা ঠিকাদারদের দিয়ে সরকারি কাজ করানো এবং স্থানীয় ঠিকাদারদের বঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় এক ঠিকাদার অশোক চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “অনেক কাজের বরাত দেওয়া হলেও টাকা মেলেনি। নিজের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের দিয়েই অধিকাংশ কাজ করানো হয়েছে।”
বিধায়কের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari একের পর এক দুর্নীতির ফাইল খোলার নির্দেশ দিচ্ছেন। রাজগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কতটা অনিয়ম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে স্পেশাল অডিটও হতে পারে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের দাবিও তোলা হবে বলে জানান তিনি।
বিজেপির আরও অভিযোগ, দিনের বেলায় বিডিওকে অধিকাংশ সময় অফিসে পাওয়া যেত না। সন্ধ্যার পর কিছু ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে অফিসে আসতেন তিনি। সেই সময় অফিসে কী চলত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।
উল্লেখ্য, খুনের ঘটনায় নাম জড়ানোর পর গত জানুয়ারিতে প্রশান্ত বর্মনকে রাজগঞ্জ বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর আমলে অনুমোদিত প্রায় সাত কোটি টাকার একাধিক কাজের বরাত বাতিল করে জেলা প্রশাসন। কেন সেই বরাত দেওয়া হয়েছিল এবং পরে কেন তা বাতিল করা হল, তারও তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।