উত্তর বাংলা নিউজ ডেস্ক: জামিন পেয়ে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার রাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার বারাসাত আদালতে পেশ করা হলে সিজেএম আদালত ১০০০ টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন। এদিন তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে জখম করার অভিযোগে আদালতে তোলা হয়। অভিযোগটি জামিনযোগ্য হওয়ায় এবং খুনের মামলার প্রয়োজনীয় নথি আদালতে জমা না পড়ায় সহজেই জামিন পেয়ে যান তিনি।
জানা গিয়েছে, খুনের মামলার নথির জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন বিচারক। সন্ধ্যায় ফের তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলেও তখনও পুলিশ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেনি। ফলে বাধ্য হয়েই আদালত জামিন মঞ্জুর করে।
অভিযোগ, সোমবার রাতে নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় আচমকা প্রশান্ত বর্মনের গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। পরে এক স্কুটার আরোহী তাঁর গাড়ি আটকান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং তাঁকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। অভিযোগ, তাঁকে অপহরণ করে খুন করেন প্রশান্ত বর্মন ও তাঁর সহযোগীরা। এই মামলায় প্রথমে বারাসাত আদালত থেকে জামিন পেলেও পরে বিধাননগর পুলিশের আবেদনে হাইকোর্ট সেই জামিন খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টও আত্মসমর্পণের নির্দেশ বহাল রাখে।
এরপর থেকেই কার্যত গা ঢাকা দেন প্রশান্ত বর্মন। যদিও শিলিগুড়ির শিবমন্দির এলাকায় তাঁকে একাধিকবার দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও প্রকাশ্যেই ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অনেকেই মনে করেছিলেন এবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। কিন্তু সেই উদ্যোগ পুলিশের তরফে দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ। অবশেষে এক সাধারণ নাগরিকের তৎপরতায় ধরা পড়লেও পুলিশের গাফিলতির কারণেই খুনের মামলার অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও জামিন পেয়ে গেলেন বলে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।