সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কিংবা পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। পাশাপাশি যাঁদের বার্ষিক আয় ৭ লক্ষ টাকার বেশি এবং আয়কর দেন, তাঁরাও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।
নতুন আবেদনকারীদের নথি খতিয়ে দেখবেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকেরা। শহরাঞ্চলে এই দায়িত্ব থাকবে মহকুমাশাসকদের উপর। পরে যোগ্যদের তালিকা পাঠানো হবে জেলাশাসকের কাছে। কলকাতায় আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে পুরসভার আধিকারিকদের হাতে এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন পুর-কমিশনার।
এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক শাখায় মহিলাদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। কেউ কেওয়াইসি আপডেট করতে ছুটছেন, কেউ আবার নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে ভিড় জমাচ্ছেন।
হুগলির বৈদ্যবাটির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপচে পড়ে ভিড়। ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, অধিকাংশ মহিলাই আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত করতে আসছেন। যদিও অনেকের কেওয়াইসি আগেই আপডেট করা রয়েছে, তবু টাকা না পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা ফের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
অনেক মহিলারই এতদিন যৌথ অ্যাকাউন্ট ছিল। এখন অনেকেই নিজেদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইছেন। যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হচ্ছে, সরকারের তথ্যভাণ্ডারে পুরনো অ্যাকাউন্ট নম্বরই নথিভুক্ত রয়েছে। ফলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুললে বরং সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকেরাই। পরে পোর্টাল চালু হলে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করা যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনার নামে ছাপানো ফর্ম বিলির অভিযোগ উঠেছে। যদিও নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, এভাবে কোনও ফর্ম পূরণের প্রয়োজন নেই। তবে ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।