আপনাদের বাবার জমি নাকি?”—চিকেনস নেক নিয়ে শিলিগুড়ি থেকে তীব্র খোঁচা অমিত শাহের
শিলিগুড়ি:বাংলাদেশে সরকারের পালাবদলের পর থেকেই উত্তপ্ত পদ্মাপাড়ের পরিস্থিতি। মাঝেমধ্যেই ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য সামনে আসছে। শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল চিকেনস নেক ‘দখল’ করার ‘ফাঁকা আওয়াজ’ও শোনা যাচ্ছে একাধিকবার।
এই আবহেই শিলিগুড়ির মাটি থেকে বাংলাদেশকে কার্যত কড়া বার্তা দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলাদেশকে নাম না করেই তাঁর তীব্র খোঁচা,
“আপনাদের বাবার জমি নাকি?”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হিংসা ও অস্থিরতার আবহ তৈরি হয়েছে সে দেশে। জঙ্গি ও নাশকতামূলক কার্যকলাপ ভারতের বিরুদ্ধে চালানো হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অতীতে। এর জেরে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে, বিশেষত উত্তরবঙ্গে নজরদারি আরও কড়া করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
শিলিগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডর। এই অঞ্চলে জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও কিছুটা অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এমনকি চিকেনস নেকে হামলা চালিয়ে ওই এলাকা দখলের হুমকির কথাও শোনা গিয়েছে। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ এই করিডরের দিকে নজর রয়েছে চিনেরও। চিকেনস নেক দখল করা হলে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার’ রাজ্যগুলিকে বিচ্ছিন্ন করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন হুমকিও সামনে এসেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত কর্মিসভা থেকে অমিত শাহ স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন। মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, চিকেনস নেক দখলের হুমকির কথা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, অনুপ্রবেশের অভিযোগও ওঠে। তার পরই কণ্ঠ চড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন—
“আপনাদের বাবার জমি নাকি?”
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চিকেনস নেক তথা শিলিগুড়ি করিডরের অদূরে চিনের তৎপরতাও নতুন করে নজর কেড়েছে। সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিস্তা প্রকল্পের এই এলাকা বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত, যার ঠিক পূর্ব দিকেই ভারতের শিলিগুড়ি করিডর।
গোয়েন্দা সূত্রে এই খবর মিলতেই কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি আরও আঁটোসাটো করা হয়েছে বলে জানা গেছে।