তিন দিন আগে ভুবনচন্দ্র রায়ের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, ভোটার তালিকায় মেয়ের নাম না থাকায় এবং এ নিয়ে বারবার উদ্বেগের জেরে মানসিক চাপে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন দিনমজুর ভুবনবাবু। বৃহস্পতিবার বাড়ির কিছু দূরে গাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর।
ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে। স্থানীয় তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক খগেশ্বর রায় মৃতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তৃণমূলের দাবি, ভুবনচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর জন্য বিজেপিই দায়ী।
অন্যদিকে বিজেপির পালটা অভিযোগ ভুবনবাবু বিজেপির সমর্থক ছিলেন। ছয় মাস আগে তৎকালীন তৃণমূল বুথ সভাপতি ‘চক্রান্ত করে’ তাঁর মেয়ের নামসহ একাধিক বিজেপি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছিলেন ভোটার তালিকা থেকে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল। বিজেপির দাবি, এখন সেই তৃণমূলই মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপির চাপে নির্বাচন কমিশন দু’বছরের কাজ দু’মাসে করছে। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিএলও রাও আতঙ্কে রয়েছেন। সেদিনই তিনি দক্ষিণ বেরুবাড়িতে এসআইআর আতঙ্কে মৃত টোটোচালক কমলা রায়ের বাড়িতেও যান।
বিজেপির রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী সদস্য নিতাই মণ্ডলের বক্তব্য, ঋতব্রতবাবু কিছুই জানেন না। মেয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ছ’মাস আগে। সেই সময়ে বুথ সভাপতি ছিলেন তৃণমূলের ব্যক্তিই যিনি বেছে বেছে বিজেপি ভোটারদের নাম কেটেছিলেন। তার বিরুদ্ধেই লিখিত অভিযোগ রয়েছে।
১৮/৫১ নম্বর বুথের বর্তমান বিএলও রতন ধরকে ফোনে বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তিনি পূর্বে তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের পর তাঁকে পদ থেকে সরানো হলেও এখনও তিনি তৃণমূলের কর্মী হিসেবেই কাজ করছেন।